ম্যাচের একেবারে শুরুতেই ইংল্যান্ডের আক্রমণের তোপে দিশেহারা হয়ে পড়ে ফ্রান্সের রক্ষণভাগ। বাঁশি বাজার পর মাত্র ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের মাথায় মাঝমাঠ থেকে ক্ষিপ্র গতিতে বল কেড়ে নেন ইংলিশ মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইস। এরপর বেশ খানিকটা দৌড়ে গিয়ে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর এক দুর্দান্ত ও বুলেট গতির শট সরাসরি ফরাসিদের জালে আশ্রয় নেয়। এই জাদুকরী গোলের মাধ্যমে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মায়ামির গ্যালারিভর্তি দর্শকদের এক অবিস্মরণীয় উদযাপনের উপলক্ষ এনে দেন ডেক্লান রাইস।
প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ফ্রান্সের ওপর দিয়ে রীতিমতো আক্রমণের ঝড় বইয়ে দিতে শুরু করে থমাস টুখেলের শিষ্যরা। ম্যাচের ১২ মিনিটের মাথায় ফরাসি রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে বল জালে পাঠান তরুণ ইংলিশ ফরোয়ার্ড বুকায়ো সাকা। এই গোলের মাধ্যমে ইংল্যান্ড ব্যবধান দ্বিগুণ করার আনন্দে মেতে উঠলেও শেষ পর্যন্ত অফসাইডের কারণে রেফারি গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন। তবে বাতিল হওয়া এই গোলটি ফ্রান্সের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করলেও তারা নিজেদের রক্ষণভাগকে গুছিয়ে নিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়।
অফসাইডের কারণে গোলবঞ্চিত হওয়ার আক্ষেপ ইংল্যান্ডের জন্য খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ম্যাচের ১৮ মিনিটের মাথায় আবারও ফ্রান্সের জালে বল জড়ায় থ্রি লায়ন্সরা। এবার প্রথম গোলের নায়ক ডেক্লান রাইসের নিখুঁত একটি ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক হেডের মাধ্যমে গোলটি করেন এজরি কনসা। তাঁর এই মাপা হেডের কোনো জবাবই ছিল না ফরাসি গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের কাছে। শুরুর এই ২০ মিনিটের আধিপত্য এবং ২-০ গোলের বিশাল ব্যবধান প্রমাণ করছে যে, তৃতীয় স্থানের এই লড়াইয়ে ইংল্যান্ড যতটা মরিয়া ও উজ্জীবিত, ফ্রান্স ঠিক ততটাই দিশেহারা ও সেমিফাইনালের হারের শোকে আচ্ছন্ন হয়ে আছে।