মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই ফ্রান্সের ওপর প্রবল আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে ইংল্যান্ড। বাঁশি বাজার পর মাত্র ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের মাথায় মাঝমাঠ থেকে ক্ষিপ্র গতিতে বল কেড়ে নিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া এক দুর্দান্ত শটে দলকে প্রথম লিড এনে দেন ডেক্লান রাইস। এরপর ১২ মিনিটে বুকায়ো সাকার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলেও ১৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে থ্রি লায়ন্সরা। রাইসের নিখুঁত একটি ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক হেডের মাধ্যমে ফরাসি গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান এজরি কনসা। শুরুর এই ২০ মিনিটেই জোড়া গোল হজম করে দিদিয়ের দেশ্যমের শিষ্যরা যেন প্রমাণ করল তারা সেমিফাইনালে হারের শোক থেকে এখনও বের হতেই পারেনি।
২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স যখন নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই ম্যাচের ৩৭ মিনিটে তাদের রক্ষণে আবারও ভয়ংকর আঘাত হানে ইংল্যান্ড। দারুণ এক প্রতি-আক্রমণে উঠে ফরাসিদের রক্ষণভাগকে পুরোপুরি এলোমেলো করে দেন মার্কাস রাশফোর্ড এবং বুকায়ো সাকা। ফ্রান্সের বক্সের ঠিক সামনে বাঁ প্রান্তে রাশফোর্ড ও সাকার বেশ কয়েকটি শট ফরাসি রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ঁ প্রাথমিকভাবে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ইংলিশদের মুহুর্মুহু আক্রমণের তোপে শেষ পর্যন্ত মাইনিয়ঁকে বোকা বানিয়ে নিজের বাঁ পায়ের জাদুকরী শটে দলের তৃতীয় গোলটি নিশ্চিত করেন সাকা।
প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ে (৪৫+১ মিনিট) ফরাসিদের কফিনে প্রথমার্ধের শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সেই বুকায়ো সাকা। এবার এজরি কনসার বাড়িয়ে দেওয়া একটি চমৎকার পাস থেকে বল পেয়ে নিজের বাঁ পায়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। বিশ্বকাপের মতো এত বড় মঞ্চে প্রথমার্ধেই ফ্রান্সের মতো বিশ্বমানের একটি দলের ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার দৃশ্যটি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে রীতিমতো অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স নিজেদের এই চরম বিপর্যয় সামলে কোনো সম্মানজনক প্রতিরোধ গড়তে পারে কি না, নাকি এটি ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম এক লজ্জাজনক বিদায় হিসেবেই লিপিবদ্ধ হতে যাচ্ছে।