ইংল্যান্ডের তৃতীয় গোলটির পেছনের মূল কারিগর ছিলেন মার্কাস রাশফোর্ড এবং বুকায়ো সাকা। ফরাসিদের এলোমেলো ফুটবলের সুযোগ নিয়ে দারুণ এক প্রতি-আক্রমণে ওঠে ইংল্যান্ড। সাকার একটি মাপা ও নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে দ্রুতগতিতে ফ্রান্সের ডি-বক্সের দিকে এগিয়ে যান রাশফোর্ড। এরপর বক্সের ঠিক সামনে বাঁ প্রান্তে বল নিয়ে রাশফোর্ড ও সাকা মিলে ফরাসি রক্ষণভাগের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেন। তাঁদের এই যুগলবন্দি আক্রমণ সামলাতে গিয়ে পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে পড়ে দিদিয়ের দেশ্যমের শিষ্যরা।
প্রাথমিকভাবে রাশফোর্ড এবং সাকার নেওয়া একাধিক শট কোনোমতে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন ফরাসি ডিফেন্ডাররা এবং গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ঁ। কিন্তু ইংলিশদের এই একটানা ও বিধ্বংসী আক্রমণের সামনে কতক্ষণ আর নিজেদের জাল সুরক্ষিত রাখা সম্ভব! শেষ পর্যন্ত ফরাসি রক্ষণভাগের সব প্রতিরোধ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। ডি-বক্সের ভেতর বল পেয়ে সাকা তাঁর দুর্দান্ত বাঁ পায়ের শটে গোলরক্ষক মাইনিয়ঁকে বোকা বানিয়ে বল সরাসরি জালে পাঠিয়ে দেন, যার ফলে ম্যাচের ৩৭ মিনিটেই ৩-০ গোলের বিশাল ও অপ্রত্যাশিত এক লিড পেয়ে যায় ইংল্যান্ড।
ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই তিন গোল হজম করে ফ্রান্স এখন মানসিকভাবে পুরোপুরি বিপর্যস্ত। সেমিফাইনালে হারের শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ইংল্যান্ডের এই আগ্রাসী ফুটবল ফরাসিদের জন্য এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। মাঠে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা যেভাবে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে খেলছেন, তা দেখে মনে হচ্ছে তাঁরা ফ্রান্সকে নিয়ে রীতিমতো খেলছেন। ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশ্যমের বিদায়ী এই ম্যাচে তাঁর শিষ্যরা যদি দ্রুত ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে না পারে, তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এই সান্ত্বনার ম্যাচটি ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক অপমানজনক অধ্যায় হিসেবেই লেখা থাকবে।